আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বর্তমান তীব্রতা বজায় রেখেই অন্তত আরও ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম ইরান—এমন দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। সংস্থাটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে যে মাত্রার সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, সেই তীব্রতা বজায় রেখে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালানোর মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতিতে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মতো তীব্র যুদ্ধ অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
আলি মোহাম্মদ নাঈনি আরও বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক অবকাঠামো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হয়। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কৌশলগত পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য যে কোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই মূল্যায়ন সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করে আসছেন, তার সঙ্গে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং তারা যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প এক বক্তব্যে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে প্রতিপক্ষের শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছি। আমরা তাদের পুরো অশুভ সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছি।’ এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের দাবি অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালানোর জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মূলত চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সামরিক জোটের অবস্থান এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সামরিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। দেশটির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শুধু সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডেই নয়, ইরানের রাজনীতি, শিক্ষা এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। ফলে দেশটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও নিরাপত্তা নীতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
আকাশজমিন / আরআর