আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শ্রীলংকা তাদের জলসীমার বাইরে উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের জন্য এক মাসের বিনামূল্যে ভিসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দা উইজেপালা জানিয়েছেন, ইরানি নাবিকদের জন্য সরকার ফ্রি ভিসা দেবে এবং তাদের দেশ ছাড়তে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
শনিবার ২০৪ জন নাবিককে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহর থেকে শ্রীলংকা নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। এই যাত্রা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছিল, এবং জাহাজটি শ্রীলংকার কাছে সহায়তা চেয়েছিল। এর আগে বুধবার শ্রীলংকা উপকূলের কাছে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নাবিক নিহত হয়েছেন।
শ্রীলংকার নৌবাহিনী ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এবং ৮৭টি লাশ উদ্ধার করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি প্রথমবারের মতো যে কোনও সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবেছে। নাবিকদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য শ্রীলংকার সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দা উইজেপালা বলেন, "উদ্ধার হওয়া নাবিকদের জন্য আমরা জরুরি সহায়তা এবং আশ্রয় নিশ্চিত করেছি। তারা শ্রীলংকা সরকারের পর্যবেক্ষণে নিরাপদে অবস্থান করবে এবং তাদের দেশে ফেরার আগে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তিনি আরও জানান, এই ভিসা ব্যবস্থা এক মাসের জন্য কার্যকর থাকবে, যাতে নাবিকরা নিরাপদে তাদের দেশে ফিরতে পারেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রীলংকার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ স্থাপন করেছে। বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে যুদ্ধ এবং সামরিক সংঘাতের কারণে নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিল, এই ধরণের পদক্ষেপ তাদের নিরাপদ ফেরার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে বয়স্ক এবং আহত ব্যক্তিরা রয়েছে, যারা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন। শ্রীলংকার নৌবাহিনী তাদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সাময়িক আশ্রয় প্রদান করছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিবাচকভাবে দেখছে।
শ্রীলংকার উদ্যোগ কেবল মানবিক নয়, এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং নাবিকদের নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করার প্রমাণও বহন করে। এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নাবিকদের সুরক্ষা ও উদ্ধার কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
উল্লেখ্য, ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহর এবং আইআরআইএস দেনা–এর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক উত্তেজনার পটভূমিতে ঘটেছে। শ্রীলংকার দ্রুত এবং মানবিক প্রতিক্রিয়া নাবিকদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।