ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ইরানে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। প্রায় ১০ দিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছিল। অবশেষে দেশটির পণ্ডিতদের পরিষদ নতুন নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে ঘোষণা করে।
এই ঘোষণার পর ইরানের সরকার, প্রশাসন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নেতাকে ঘিরে সমর্থনের বার্তা দিতে বিভিন্ন বাহিনী ও সরকারি বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধের কারণে সরাসরি নতুন নেতার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না থাকলেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে তার প্রতি সমর্থন জানান। বিক্ষোভকারীরা নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি বহন করে মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষজন বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে দেশের শাসকদের প্রতি সমর্থন জানান এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন। অনেকেই বলেন, কঠিন সময় পার করছে দেশটি এবং এই সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন নেতার ঘোষণার পর দ্রুত জনসমর্থন প্রদর্শনের এই উদ্যোগ ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনি।
পরবর্তীতে জানা যায়, ওই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনিরও মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় বেঁচে যান আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
এ ঘটনার পর থেকেই ইরানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে দেশটির পণ্ডিতদের পরিষদ আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান নতুন নেতৃত্বের অধীনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। নতুন নেতাকে ঘিরে জনসমর্থনের এই শোভাযাত্রাও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা।