সোমবার (৯ মার্চ) এক বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট ইরানের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কঠিন সময়ের মধ্যেও ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে রাশিয়া। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাস্ত্রের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটে। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে মুজতাবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মুজতাবা খামেনির এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, আমি তেহরানকে আমাদের অটল সমর্থন এবং ইরানি বন্ধুদের সঙ্গে সংহতির বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করতে চাই। তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতা হিসেবে মুজতাবা খামেনি তার বাবার পথ অনুসরণ করে দেশের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে মুজতাবা খামেনি তার বাবার কাজ সসম্মানে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে রাশিয়ার এই সমর্থনের বার্তা আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে মস্কো তাদের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
এদিকে নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান সামরিক পদক্ষেপও শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মুজতাবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান প্রথম দফায় ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে নতুন করে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাশিয়ার এই সমর্থন বার্তা সেই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।