ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইরান যুদ্ধের প্রভাব:

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে, তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৩৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। যুদ্ধ পরিস্থিতি, তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথে অচলাবস্থার সম্ভাবনায় জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১২ দশমিক ৭৭ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১২ দশমিক ৬৬ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।

তবে অত্যন্ত অস্থির এই সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছিল, যা একদিনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির অন্যতম রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে ডব্লিউটিআইয়ের দামও এক পর্যায়ে ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছে যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সেই সময় থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলএসইজির ১৯৮০ সালের পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাজারে তীব্র সরবরাহ সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলএসইজির ২০০৪ সালের পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের বর্তমান সরবরাহ এবং ছয় মাস পরের সরবরাহ চুক্তির মূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষণে এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়, যা সাধারণত তাৎক্ষণিক সরবরাহ সঙ্কটের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এই রুটে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগও তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর এক সপ্তাহের মাথায় তেহরানে ক্ষমতার কাঠামো আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আরও কয়েক মাস উচ্চমূল্যের জ্বালানির মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছেছে।

ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেছেন, তেলের বাজারে বিকল্প ব্যবস্থা খুবই সীমিত। কৌশলগত মজুদ থেকে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তা সামগ্রিক সংকট মোকাবিলায় খুব সামান্য ভূমিকা রাখবে।

এদিকে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার এবং জি-৭ রাষ্ট্রগুলো কৌশলগত মজুদ ব্যবহার করে বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়েও আলোচনা করছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর দুটি তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশও মজুদ কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও শনিবার থেকে উৎপাদন কমিয়ে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করেছে।

এছাড়া গ্যাসের বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইনের বিএপিসিওর পরিশোধনাগারে হামলার পর ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর