মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের কাছে সহায়তা চেয়েছে বিশ্বের ১১টি দেশ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানি ড্রোন প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বেশ কয়েকটি দেশ।
জেলেনস্কি জানান, এখন পর্যন্ত ইরানের প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ, ইউরোপীয় কয়েকটি রাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১১টি দেশ ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চেয়েছে। এসব দেশ বিশেষ করে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইউক্রেন নিজেদের শক্তিশালী ড্রোন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে পরিচালিত ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেন উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ছোড়া ইরানি তৈরি ড্রোন প্রতিহত করে আসছে। এই অভিজ্ঞতা এখন অন্য দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান প্রতিশোধ হিসেবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
এদিকে ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই ধ্বংস করা হয়। তবে এর কিছু ধ্বংসাবশেষ তুরস্কের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় শহর গাজিয়ানটেপে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ভূখণ্ড বা আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তুরস্ক সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের হুমকি এলে তা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেশটি দ্বিধা করবে না।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তুরস্কের ভূখণ্ড ও আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে দেওয়া সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে বিভিন্ন দেশ এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি খুঁজছে।