আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার চেষ্টা করলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সোমবার (৯ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর ভেতরে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার মতো কিছু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এখন পর্যন্ত যে আঘাত করা হয়েছে তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোরভাবে আঘাত হানবে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “এমন হলে আমরা ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাব। এতে ইরানের পক্ষে আবার একটি জাতি হিসেবে গড়ে ওঠা কার্যত অসম্ভব হয়ে যাবে। তাদের ওপর নেমে আসবে মৃত্যু, আগুন ও ক্রোধ। তবে আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি—এমন পরিস্থিতি যেন না ঘটে।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, তার পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অংশ এবং এটি চীনসহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি “উপহার”।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। এই প্রণালী বন্ধ হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার তেল বাজারও প্রভাবিত হবে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহে ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি ইরানের প্রতি একটি কঠোর বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি, তবে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরাসরি হুমকি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বিচক্ষণ কৌশল গ্রহণ করতে পারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর প্রচলিত সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগের পূর্বাভাস।
ট্রাম্প এই পোস্টে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে যাতে ইরান নতুন করে শক্তিশালী জাতীয় ক্ষমতায় ফিরে না আসতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর ভয়, আগুন এবং ক্রোধ ইরানের জন্য বড় একটি ফলাফল হিসেবে প্রমাণিত হবে। তিনি একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হোক।
এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা ওঠানামা করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহে সমস্যা হয়, তবে বৈশ্বিক তেল বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত এবং জাপানসহ হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী দেশগুলো সজাগ নজর রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এমন সময় এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে প্রতিরক্ষা কৌশল ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের কাজও জটিল হয়ে উঠেছে।
মোটের ওপর, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও তেল সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।