আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের খোমেইন শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, খোমেইন শহরের হাফেজ খোমেইনি স্কুল এ হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুলের সংলগ্ন আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গত কয়েকদিন ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ক্রমবর্ধমান হচ্ছে। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি গার্লস স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৫ শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়। সেই হামলায় স্কুলে কর্মরত স্টাফরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ ইরানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার দিকে নিবদ্ধ হয়েছে।
মেহের নিউজ জানিয়েছে, খোমেইন শহরের হাফেজ খোমেইনি স্কুলের বেসিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। স্কুলের বহু কক্ষ ব্যবহারযোগ্য নয়। আশপাশের আবাসিক এলাকা তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জরুরি উদ্ধার কর্মীরা উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা দিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে হামলার জেরে বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।
হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই হামলা ইরানই করেছে। কারণ—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এতো উন্নতমানের নয়। খারাপ কোয়ালিটির ক্ষেপণাস্ত্র ভুলবশত নিজের এলাকায় হামলা চালিয়েছে তারা।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের কৌশল বর্তমানে শহুরে এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করছে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শিশু অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, হাফেজ খোমেইনি স্কুলে পড়ুয়াদের পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না। অনেক পরিবার শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় সমাজসেবীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
হামলার ফলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। স্কুল এবং আশেপাশের এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহও সীমিত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করছেন। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নজর রাখছে।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু এবং হামলার পরিকল্পনার স্বচ্ছতা না থাকায় এমন ভুলবশত হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ধরনের হামলা পুনরায় ঘটলে শিশু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আকশজমিন / আরআর