আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়েছে। ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। তিনি তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আলি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় মোজতবা খামেনির পরিবারে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় তার স্ত্রী জাহরা হাদাদ-আদেল এবং একজন সন্তান নিহত হয়েছেন। এছাড়া মোজতবার মা মনসুরে খোজাস্তেজ বাঘেরজাদেহও প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানি মিডিয়ার খবরে আরও বলা হয়, মোজতবার কাছের আত্মীয়দের অন্তত চারজনও এই হামলায় নিহত হয়েছেন। এনডিটিভি জানায়, তারা এই রিপোর্টের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, নিহতদের মধ্যে মোজতবার বোন, ভাগ্নি, ভাগ্নে এবং এক শ্যালকও রয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলার পর থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা ১১ দিন ধরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চলছে। প্রথম দফার হামলাতেই দেশটির অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার হত্যার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। ইরানি সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
মিডিয়ার খবরে উল্লেখ আছে, মোজতবা খামেনি এই পরিস্থিতিতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তাঁর ওপর বর্তমান দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইরান সরকার প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোজতবার নেতৃত্বে ইরান নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি গ্রহণ করবে। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তবে চলমান পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কোনো সমাধান এখনও দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তেল উৎপাদন ও পরিবহন সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য এবং সরবরাহের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে।
মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব নেওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও ইরানের পরিস্থিতি এখনও অস্থির। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মীমাংসার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে।
আকশজমিন / আরআর