ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নড়াইলে সৌন্দর্যে ভরা শুভ্র সাদা ভাঁট ফুল মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:৩২ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি 

গ্রামবাংলার অতি পরিচিত গুল্মজাতীয় বহুবর্ষজীবী বুনো উদ্ভিদ ভাঁট। গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথে, রাস্তার পাশে, আনাচে-কানাচে অযত্নে অবহেলা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে এই ভাঁট ফুল এখন নড়াইলের পথে পথে ছড়াচ্ছে অপার সৌন্দর্য। শুভ্র সাদা ভাঁট ফুল চোখ জুড়ায় যে কোন ফুল প্রেমীদের।

নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার দু’পাশে,গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠোপথে ও আনাচে-কানাচে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় ভাঁট গাছ। গ্রাম বাংলার চিরচেনা এ ফুলটি হরহামেশা দেখা গেলেও সাদা ফুলের দিকে তাকালে অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। অঞ্চলভেদে এই গাছের ফুলকে ভাইটা ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, বনজুঁই ফুল, ঘণ্টাকর্ণ বলা হলেও নড়াইলে ভাঁট ফুল বা ভাঁটি ফুল নামেই বেশি পরিচিত। চৈত্র মাসে এই ফুল ফোঁটে বলে একে চৈতের ফুলও বলা হয়।

নড়াইলের বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের চাঁদপুর-বগুড়া বিলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক, লোহাগড়া-মিঠাপুর প্রধান সড়কের দুই পাশে ও কালিয়া-নড়াইল-মাগুরা প্রধান সড়কের দুই পাশে ভাঁট ফুলের সমারোহ দেখলে মনে হবে প্রকৃতি যেন অপরূপ সাজে সেজেছে। এছাড়া জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আশ পাশের বাগানগুলোতে ভাঁট ফুলের সৌন্দর্য দেখে পথচারী বা দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হবেন।

বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রকৃতিকে সাজাতে ফোঁটে এই শুভ্র সাদা ভাঁট ফুল। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মাঠ, বন, রাস্তা কিংবা জলাশয়ের পাশে মিষ্টি ঘ্রানের,অজস্র ভাঁট ফুল ফোঁটা অবস্থায় চোখে পড়ে। এক সঙ্গে অনেক ফুল ফুটে। ফুল ফোটার পর মৌমাছিরা এর মধু সংগ্রহ করে থাকে। ভাঁট ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম, “ক্লেরোডেনড্রাম ভিসকোসাম” ও ইংরেজি নাম “হিল গেন্টারি বোয়ার ফ্লাওয়ার”। ভাঁট ফুলের আদি নিবাস ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অঞ্চলে।

তবে যতদিন যাচ্ছে ততই হারিয়ে যাচ্ছে এই প্রজাতির ফুল। এখন বেশ দুর্লভ। গ্রামে কমেছে, শহরে তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু ফুলপ্রেমীরা খুঁজলে নিরাশ হবেন না। এই ফাল্গুন-চৈত্রে চোখ খোলা রাখলে, মন থেকে খুঁজলে সন্ধান মিলবে ভাঁটের। নিজ উদ্যোগে বেঁচে থাকা ভাঁট গাছের প্রধান কান্ড সোজাভাবে দন্ডায়মান, সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। পাতা ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা হয়। দেখতে কিছুটা পানপাতার আকৃতির ও খসখসে। ডালের শীর্ষে পুষ্পদ-ে ফুল ফোঁটে। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশ্রণ আছে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি ফুল ফোঁটে। এই ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। রাতে বেশ সুঘ্রাণ ছড়ায় এই ফুল। ফুল ফোঁটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকে।

ভাঁটফুল বা ঘেটু গুল্মজাতীয় দেশী বুনো পুষ্পক উদ্ভিদ। এটি বুনো ফুল, গাঁয়ের মাঠে কিংবা রাস্তার ধারে অযত্নে ফুটে থাকে এই ফুল। ফুল গাছটি ভাঁট বলে পরিচিত হলেও স্থানভেদে এবং ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে এর ভিন্ন ভিন্ন নামও রয়েছে। অনেকে একে বনজুঁইও বলেন। এ গাছের ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে।

সদর  উপজেলার আওড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মোহুরি  জানান, “ছোট বেলায় আমাদের অঞ্চলে এই মৌসুমে প্রচুর ভাঁট ফুল দেখা যেত। এখনো দেখা যায়, তবে আগের মত নয়, কম। দেখতে যেমন সুন্দর তেমন এর ঘ্রাণটাও খুবই ভালো লাগে।”

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের শান্তা খান  জানান, “একসময় গ্রাম-গঞ্জে প্রায় সর্বত্র এই ফুল দেখা যেত। এখন আগের মতো সচারচার দেখা যায় না। অযত্নে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠলেও সৌন্দর্যে কোনো কমতি নেই।”

কালিয়া উপজেলার ফাহিম শেখক বলেন,“ভাঁট ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। গ্রামের মেঠোপথের দু'পাশে এখনও এ ভাঁট ফুল দেখা যায়, তবে আগের চেয়ে এখন কমই চোখে পড়ে।”

নড়াইল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ভাট ফুলের  সৌন্দর্য মানুষকে বিমহিত করে। নড়াইলের বেশিরভাগ গ্রামের রাস্তার পাশে দেখতে পাওয়া যায়।
আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর