কক্সবাজারের রামু উপজেলায় রামু বনিক সমিতির নামে চাঁদাবাজি ও সমিতির কর্তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। চৌমুহনী বাজারের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের অভিযোগ, সমিতি প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকার চাঁদা আদায় করে। প্রত্যেক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে দৈনিক ২০ টাকা করে নেওয়া হয় এবং মাস শেষে মোটা অংকের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা জানান, উপজেলা শহরের চৌমুহনী কাঁচা বাজার, মাছের বাজার এবং সড়ক বা ফুটপাত যেখানে খুশি সেখানে বসতে পারলেও দোকান করতে হলে বাধ্য হয়ে সমিতিকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে দোকান বন্ধের হুমকি দেওয়া হয় এবং দলবলসহ মারধর করার ঘটনা ঘটানো হয়। এতে বিক্রেতারা ও সমিতির সাধারণ সদস্যরা অতিষ্ঠ।
এছাড়া, চৌমুহনী বাজারের মার্কেট মালিকরাও সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন। এক দোকানদার বলেন, “দোকান করতে হলে সমিতিকে চাঁদা দিতে হয়, না দিলে হুমকি ও মারধর করা হয়। এটি আমাদের ব্যবসায়িক স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলে।”
রামু বনিক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন অভিযোগগুলো সম্পর্কে এখনও সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে বিষয়টি রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বানী চৌধুরী নজরে এসেছে। ইউএনও জানান, চৌমুহনী বাজারে চাঁদাবাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের উপর চলমান অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। তারা মনে করেন, বাজারে স্বচ্ছ ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই ঘটনায় রামু উপজেলার ব্যবসায়িক সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ আশা করছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা ও ব্যবসার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যায়।
আকাশজমিন / আরআর