পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ রাত লাইলাতুল কদরের রাতে একটি কথিত ‘সেহরি পার্টি’ আয়োজনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে জেসিআই বাংলাদেশের কিছু সদস্যের সঙ্গে এই আয়োজনের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে হিন্দি গানের তালে নাচ, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী বলেছেন, লাইলাতুল কদরের রাতে এ ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন রমজানের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিভিন্ন মন্তব্যে প্রকাশ করা হয়েছে, রমজান মাস বিশেষ করে শেষ দশকের রাতগুলো মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ সময়ে সাধারণত ইবাদত, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে সময় কাটানো হয়। সেহরির নামে এমন অনুষ্ঠান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেসিআই সদস্য জানিয়েছেন, সেহরির দাওয়াত দিয়ে ডাকা হলেও সেখানে গিয়ে গান-বাজনা ও নাচের আয়োজন দেখে তারা বিব্রত হয়েছেন। অন্য একজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, সংগঠনের কিছু শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ ধরনের আয়োজনের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, ধর্মীয় আবহে এই ধরনের আয়োজন কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
জেসিআই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার ফলে সামাজিক আলোচনার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের আশঙ্কা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক দায়িত্বশীলতার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ভবিষ্যতে সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব ও কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বক্তারা মনে করছেন, রমজানের মর্যাদা রক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ধর্মীয় আবহের প্রতি সংবেদনশীল থাকা। একই সঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো মানুষের অংশগ্রহণ এবং মতবিনিময়ের ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করেছে।