সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 64
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক কোটি ৩৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯০টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ব্যবসায়ী হেলাল হোসেন (৫৩) ও তার স্ত্রী শেফালী খাতুন খুসি (৪৩) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. আক্তারুজ্জামানের আদালতে তারা জামিন চেয়ে আত্মসমপর্ণ করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হেলাল হোসেন তাড়াশ উপজেলার ঘরগ্রাম পূর্বপাড়া মহল্লার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে।
দুদক ও আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শেফালী খাতুন খুসি একজন গৃহিণী। তবে তিনি এক কোটি ৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক। হেলাল হোসেন একজন মাছের আড়ৎদার। তাদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। এক মামলায় হেলাল হোসেন প্রধান আসামি ও অন্যটিতে দ্বিতীয় আসামি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হেলাল হোসেন দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৭৩ টাকা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। অন্যদিকে শেফালী খাতুন ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৩ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন এবং ৮৮ লাখ ১৩ হাজার ৩৮৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রাখেন। হেলাল হোসেন তার স্ত্রীর নামে এই সম্পদ অর্জনে সরাসরি সহায়তা করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ আছে, এই কর্মকাণ্ড দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালত জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে, ২০২২ সালের ৯ মার্চ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ধোপাকান্দি এলাকায় ১৩৮ গ্রাম হিরোইন ও ২৯ পিস ইয়াবা নিয়ে র্যাব-১২ হেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছিল। বর্তমানে সেই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন।
দুদক ও আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পদ অর্জন ও উপার্জনের উৎসের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের মামলা জনগণের কাছে সতর্কবার্তা দেয় যে অবৈধ উপার্জন সংরক্ষণ করা যাবে না। এই রায়ের মাধ্যমে হেলাল দম্পতি আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাদের সম্পদের উৎস যাচাই এবং আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
আকাশজমিন / আরআর