ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরিকল্পনা ভাঙল ইরান


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরিকল্পনা ভাঙল ইরান

  • আপলোড সময় : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৭:৫১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান। মার্কিন প্রশাসন এবং ইসরায়েল মনে করেছিল, ইরানকে সহজে পরাজিত করে ইসলামী শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলা সম্ভব, তবে বাস্তবতা ভিন্ন প্রমাণ দিয়েছে।

যুদ্ধে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলেরও প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিন যুদ্ধব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের সরকার ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে পড়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার অগ্রগতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হলেও, সামগ্রিকভাবে যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনের গতি শুরুর পরিকল্পনার তুলনায় কম। ফলে যুদ্ধের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।

ইসরায়েলের কিছু গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরানের সাধারণ জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য বড় ধাক্কা। সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে ভুল হলেও যৌথভাবে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা, যা যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে পারে।

এর আগে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানি আকাশসীমায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), সরকারি ভবন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা। সামরিক অভিযান চলাকালীন প্রায় ২,২০০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ প্রায় ১,৩০০ জন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বিশ্ববাজার ও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলেছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন চলেছিল। কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সংলাপ। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পরবর্তী ১৭ দিন ধরে হামলা-পাল্টা হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

যুদ্ধ এখনও চলমান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর