ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একনেকে ১২ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা অপরাধের ধরন পাল্টালেও আধুনিকায়ন হয়নি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী

ঈদযাত্রায় স্বস্তি: সেতুতে নেই বড় যানজট

পদ্মা-যমুনা সেতুতে টোল ও পারাপারে নতুন রেকর্ড


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১০:০৮ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই সেতু পদ্মা সেতুযমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলতি বছরের যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। গত ২০২৫ সালে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে পদ্মা সেতু থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। এতে বোঝা যাচ্ছে, যানবাহন পারাপারের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি টোল আদায়েও নতুন উচ্চতা অর্জিত হয়েছে।

একইভাবে যমুনা সেতুতেও পারাপারের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন যমুনা সেতু পার হয়েছে। ২০২৫ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ পারাপার ছিল ৪৮ হাজার ৩৬৮টি যানবাহন। টোল আদায়ের ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড গড়ে উঠেছে। ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা দীর্ঘস্থায়ী যানজটের ঘটনা ঘটেনি। এটি সেতু ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা ও সমন্বয়ের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু বিভাগ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে টোল আদায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রশিক্ষিত টোল সংগ্রাহক নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা এবং মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন থামানো ছাড়াই টোল আদায়ের আধুনিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা যাতায়াতকে আরও দ্রুত করেছে।

এছাড়া মাওয়া বাস-বে ও এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ওঠানামা সহজ হয় এবং সড়কে চাপ কমে। উন্নত নজরদারির জন্য সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং দল সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

নিরাপত্তা জোরদার করতে সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভারী রেকারসহ মোট তিনটি উদ্ধারকারী যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সহায়তা দলও রাখা হয়েছে।

এছাড়া ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু রাখা এবং যাত্রীদের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণের মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা যাত্রীদের স্বস্তি বাড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, পদ্মা ও যমুনা সেতুতে নতুন এই রেকর্ড দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর