ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পারমাণবিক হুমকির তালিকায় পাকিস্তান: তুলসি গ্যাবার্ড


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১০:২০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-এর জন্য ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক হুমকির তালিকায় পাকিস্তান অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। বুধবার মার্কিন সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির বৈঠকে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে তুলসি গ্যাবার্ড জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান, চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমশ বড় ধরনের পারমাণবিক হুমকি হয়ে উঠছে। এসব দেশ উন্নত ও প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। তার ভাষায়, “রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও পাকিস্তান উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা আমাদের মাতৃভূমিকে তাদের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে।”

বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। এর মধ্যে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনাও থাকতে পারে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা বোঝার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী এক দশকে এই হুমকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বর্তমানে বিশ্বে বিদ্যমান প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশেষজ্ঞ সুজা নওয়াজ এই মূল্যায়নকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আগের প্রশাসনও পাকিস্তানের কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে পাকিস্তানের শাহিন-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত এবং দেশটি বারবার দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত ভারত-কে মোকাবিলার জন্য।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বর্তমান প্রশাসন সাধারণত পাকিস্তান নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেও এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এখানে পাকিস্তানকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করা হয়নি; বরং অন্যান্য দেশের সঙ্গে একত্রে বিবেচনা করা হয়েছে।

তুলসি গ্যাবার্ড আরও সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য বড় হুমকি। প্রতিবেদনে কাশ্মির ইস্যুকে ‘দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং তালেবান-এর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে রয়েছে।

ইরান প্রসঙ্গে গ্যাবার্ড বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে কিছুটা চাপে থাকলেও ইরান এখনো সক্রিয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে সক্ষম। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর