সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় প্রধান ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
কুশখালী বাউকোলা মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মওলানা মহব্বত আলী। জামাতে ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও পাইকগাছাসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মুসল্লিরা অংশ নেন।
কলারোয়া উপজেলার গোয়ালচত্বর গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন জানান, সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে সকাল ৮টায় নামাজে অংশগ্রহণ করেছি। পরিবারের সবাই একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন।
পাইকগাছা উপজেলা থেকে আসা জিএম হাসান মাহবুব বলেন, “আমরা আগে থেকেই জানতাম শাওয়াল মাসের চাঁদ উঠেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদ উদযাপন করাকে যুক্তিসঙ্গত মনে করি। এই কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি।”
নামাজ শেষে খুতবায় মওলানা মাহবুবুর রহমান বলেন, “পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে আমরা ঈদের নামাজ আদায় করেছি। একদিন আগে থেকেই রোজা শুরু করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মুসল্লিদের উপস্থিতি অনেক বেশি ছিল।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যেন সবাই একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।”
স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা গত এক যুগ ধরে সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে তারা ঈদ উদযাপন করেছেন।
গ্রামের মানুষ সকালে নতুন পোশাক পরে মসজিদে আসে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করার পর কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে আনন্দের ছাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের নামাজ শেষে গ্রামের মানুষ ঘরে ফিরে ঈদের খাবার, মিষ্টি এবং উপহার বিতরণসহ অন্যান্য আয়োজন করে।
উপজেলার সামাজিক ও ধর্মীয় নেতারা জানান, এ ধরনের আয়োজন গ্রামের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা ও ঈদ উদযাপন স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
সাতক্ষীরার গ্রামের মানুষ এই প্রথার মাধ্যমে এক যুগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এবং এলাকার ছোট-বড় সবাই শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপন করেছে।
আকাশজমিন / আরআর