ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

‘অর্থনৈতিক ধকল আর সইতে পারছেন না ট্রাম্প’


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:০৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধের বহুমুখী চাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব আর সহ্য করতে পারছেন না। বিশেষ করে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধকল থেকে মুক্তি পেতে তিনি একটি ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ বা নিরাপদ প্রস্থানের পথ খুঁজছেন। এ বিষয়ে দ্য হিল-এর হোয়াইট হাউস কলামিস্ট নিয়াল স্ট্যানেজ আল জাজিরাকে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

স্ট্যানেজের মতে, এই যুদ্ধ শুরু থেকেই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জনপ্রিয় ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন নাগরিকদের গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়েছে। এই অর্থনৈতিক চাপ এবং এর রাজনৈতিক মূল্য ট্রাম্প দিতে খুব একটা ইচ্ছুক নন।”

ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট স্রেফ সময়ক্ষেপণ করছেন যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করা যায়। স্ট্যানেজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো হয়তো ‘ধাপ্পাবাজি’ বা খুব শীঘ্রই নীতিমালায় আকস্মিক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো সময়ের হিসাব। আগামী শুক্রবার ট্রাম্পের দেওয়া বর্ধিত সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ শেষ হতে যাচ্ছে। ঠিক একই সময়ে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত মার্কিন মেরিন সেনাসদস্যরা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্ট্যানেজ মন্তব্য করেন, “ডেডলাইন শেষ হওয়া এবং অতিরিক্ত সৈন্য পৌঁছানো—এই দুটি ঘটনা একই সময়ে ঘটছে, যা রহস্যজনক এবং অনেকেরই ভ্রু কুঁচকে দিচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস এখন দ্বিমুখী চাপে। একদিকে ভোটের রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে সামরিক কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখা—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতির মোড় নির্ধারণ করবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শুধু মার্কিন অর্থনীতির উপর নয়, বিশ্ববাজারেও চাপ তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, জনগণের চাপে সামঞ্জস্য বজায় রেখে সামরিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করা।

এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো দ্রুত কোনো নীতি পরিবর্তন করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে ঝুঁকবেন। তবে ইঙ্গিতগুলো বিভ্রান্তিকরও হতে পারে, কারণ প্রেসিডেন্ট প্রায়ই কঠোর হুমকি ও নরম বার্তার মধ্যে সমন্বয় করেন।

এ প্রসঙ্গে স্ট্যানেজ বলেন, “হোয়াইট হাউসের চাপে প্রেসিডেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু মার্কিন রাজনীতির নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ট্রাম্পের প্রাপ্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিশ্ববাজার ও ভূ-রাজনীতির পরবর্তী ধারা।”



এ সম্পর্কিত আরো খবর