ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে যা দিতে ও নিতে চান ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধ করতে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত প্রকাশ পেয়েছে।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই শান্তি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে ইরানের সামনে বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। প্রথমত, ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে ধ্বংস করতে হবে। এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পূর্ণ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আস্থা তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের দেওয়া সহায়তা বন্ধ করার বিষয়টিও এই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানের যেসব পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, তা পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে। পাশাপাশি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না। বর্তমানে যে সমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখার শর্তও এই শান্তি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সামুদ্রিক পথকে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না থাকে।

এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে এবং তা শুধুমাত্র আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তবে এই কঠোর শর্তগুলোর বিনিময়ে ইরানকে কিছু সুবিধাও দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বুশেহর শহরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান।

এছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর কখনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এক মাসের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা ইরান সরকার—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব বা সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করেনি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর