ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৩৮ পিএম

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নেতা নীতি দত্ত চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

নিহত নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন। তিনি উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে গুলি করার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আশপাশের লোকজন গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে গুলির আঘাত ছিল এবং বাম হাত ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার পরপরই পানছড়ি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যার জন্য প্রসিতপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে ইউপিডিএফের জেলা সংগঠক অংগ মারমা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেলা কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তার দাবি, সংগঠনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত রয়েছে, যা মাঝে মধ্যেই সহিংস ঘটনায় রূপ নেয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।

এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, খাগড়াছড়ির এই হত্যাকাণ্ড আবারও পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর