শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার আসামি বগুড়া-2 (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জাতীয় পার্টির বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বগুড়া অঞ্চলে একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জানা যায়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পলাতক ছিলেন। ওই সময় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ অন্তত দশটি মামলা দায়ের করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। অবশেষে রাজধানীর রমনা এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাকে আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সাবেক এই সংসদ সদস্যের গ্রেফতার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন আদালতের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়।