সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 193
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল নামতেই সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। শুক্রবার ভোর থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে আশপাশের সড়কগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সয়দাবাদ, মুলিবাড়ি চেকপোস্ট ও কড্ডার মোড় এলাকায় যানজটের সূত্রপাত হয়। পরে তা বিস্তৃত হয়ে পুরো পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে যান চলাচলকে ধীরগতির করে তোলে।
পুলিশ জানিয়েছে, টাঙ্গাইল অংশে একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পশ্চিম সংযোগ সড়কে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটি শেষে একযোগে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
যানজটের কারণে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং কর্মস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল জানান, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে তাড়াশ থেকে যাত্রা শুরু করেও যমুনা সেতু পার হতে তার প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে এই পথ পাড়ি দিতে অনেক কম সময় লাগে, কিন্তু আজকের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত দুর্বিষহ।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সেলিম রেজা বলেন, ভোর থেকেই যানজট শুরু হয়েছে। পূর্ব পাশে দুর্ঘটনার কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং তার প্রভাবে পশ্চিম অংশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমেছে। বর্তমানে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় যানজট নেই এবং পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের পর একযোগে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মস্থলে ফেরার চাপ এবং সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এ ধরনের যানজট তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং সময়ভিত্তিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণের মতো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের এই যানজট ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন যাত্রীরা।