যশোরে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে যশোর-নড়াইল জাতীয় মহাসড়কের ফতেপুর এলাকায় নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস অগ্নিগ্রস্ত হয়। যাত্রীরা দ্রুত বাসের দরজা ও জানালা ব্যবহার করে নিরাপদে নেমে আসায় কেউ হতাহত হননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে যশোর থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বাসের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বাসের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। বাসে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে জানালা ও দরজা দিয়ে বের হয়ে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং কাঁচের জানালা ও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, বাসটি যশোর থেকে ছাড়ার আগে চালক বাসটির ইঞ্জিনে ত্রুটির কথা মালিকদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু মালিকদের জোরাজুরিতে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পুলিশ এই ঘটনার সত্যতা ও কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যাত্রীবাহী বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের বড় কারণ হয়ে থাকে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে, এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যশোর-নড়াইল জাতীয় মহাসড়ক এক ব্যস্ত রুট হওয়ায় যাত্রী ও যান চলাচলের জন্য সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বাস মালিকদের দ্রুত ইঞ্জিন ও যান্ত্রিক অংশ পরীক্ষা করে ত্রুটি দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের সতর্ক থাকার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষও বাস মালিকদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
যশোরবাসী আশা করছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যথাযথ নিয়ম ও মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং মহাসড়কে যান চলাচলের ব্যাঘাতও কমবে।
এই ঘটনার পর পরিবহন মালিকরা জানিয়েছে, তারা বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনও বাস চালক ও মালিকদের দায়িত্বশীলতার প্রতি জোর দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সজাগ উপস্থিতি এবং যাত্রীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোনো বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করেছে।
দূর্ঘটনাটি আবারো মনে করিয়ে দিয়েছে, যে কোনো যাত্রীবাহী যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রীদের সতর্কতা অপরিহার্য। নিরাপদ যাত্রার জন্য প্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
আকাশজমিন / ্আরআর