উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 46
রাজশাহীতে শিশুমৃত্যু রোধ, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বিশেষায়িত রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে অতি সংক্রামক রোগ ‘হাম’ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব ও উন্নয়নধর্মী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের পক্ষ থেকে বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডাঃ এস.আই.এম রাজিউল করিম বরাবর পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রাজশাহীর সিভিল সার্জনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোসাঃ মাহবুবা খাতুন।
স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য) রাজশাহী, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক, জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক, সাধারণ সম্পাদক পলি রানী, পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক তামিম তুলি, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, আমার বাংলা তরুণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ জাকি, নারী নেত্রী তহুরা খাতুন লিলিসহ অন্যান্যরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার হলেও দেশে এখনও সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। আইসিইউ সেবার অপ্রতুলতার কারণে গত ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ-এর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
চিকিৎসার নগরীখ্যাত রাজশাহীতে বর্তমানে হাম রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে, রাজশাহী নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি ২০২৩ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনও চালু হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা এবং অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে হাসপাতালটি।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি স্বাধীন স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন ইতোমধ্যে ৪০০টিরও বেশি সুপারিশ প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৩৩টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করা সম্ভব।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাজশাহীর ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল অবিলম্বে চালু করা, হাম রোগের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং একটি স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন গঠন।