সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 176
সিরাজগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযানে ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকার জাল নোট এবং ১৯৬ বোতল মাদকদ্রব্যসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)। গত রবিবার ও সোমবার জেলার সলঙ্গা ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ও ধোপাকান্দি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় রবিউল ইসলাম (২০) ও আবুল হাসান (২৯) নামে দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে সদর থানার শিয়ালকোল এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ১৯৬ বোতল মাদকদ্রব্যসহ মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), মনিরুজ্জামান (৩৯) এবং রোজিনা বেগম (৩৫) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জাল টাকা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল।
র্যাব-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জাল টাকা ও মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই অভিযান দুটি শহর ও গ্রামীণ এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা চেকিং ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, জাল টাকা ও মাদক ব্যবসা সন্ত্রাস ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত, তাই এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ এবং র্যাবের যৌথ প্রচেষ্টায় এই অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, জাল টাকা ও মাদকদ্রব্যের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করছিল, তবে র্যাবের হঠাৎ অভিযান এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছে।
র্যাব-১২ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা জাল নোট ও মাদক সরবরাহের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছিল এবং স্থানীয় বাজারে মাদক সাপ্লাই করছিল। অভিযানের সময় বিভিন্ন প্রমাণও উদ্ধার করা হয়েছে, যা মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, অভিযান চলমান থাকবে এবং যারা জাল টাকা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তারা শিগগিরই শনাক্ত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মুখে পড়বে। স্থানীয় পুলিশ ও র্যাবের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জেলার অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ধরনের অভিযান সাধারণ জনগণের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ নির্মূলের বার্তা দেয়। র্যাব-১২ দাবি করেছে, জাল টাকা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।