ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

পাকুন্দিয়ায় ইউনিয়ন প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:৫২ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এগারসিন্ধুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন না করে এবং ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসক প্রকল্পের তিন জন সভাপতি তৈরি করে, তাদের কাছ থেকে ব্যাংকের সাদা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের কক্ষ সংস্কার এবং চারটি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়নি বা আংশিক হয়েছে।

সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে ইউনিয়ন পরিষদকে বরাদ্দ হিসাবে ১০ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়। ২১ মার্চ, ঈদের আগে, প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী সরকার চেয়ারম্যানের কক্ষ সংস্কার ও অন্যান্য চারটি রাস্তার জন্য পাঁচটি প্রকল্প তৈরি করেন। প্রকল্পের জন্য ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেখানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে প্রশাসক তিনজন সভাপতি থেকে চেকের স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। দুই জন সদস্যের নামে এবং চরদেওকান্দি এলাকায় চারটি রাস্তার প্রকল্প দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে একটি রাস্তাতেই আংশিক কাজ হয়েছে। চেয়ারম্যানের কক্ষে রঙের কাজের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ‘বাহাদিয়া এরশাদের বাড়ি থেকে মহিবুরের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিয়াং নির্মাণ’ প্রকল্পে পূর্বের রাস্তা কাজকে নতুন প্রকল্প দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার গোলাম মোস্তফা বলেন, “রাস্তা দুই মাস আগে তৈরি হয়েছে। আমি জানি না আমাকে এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে।”

গোলাম মোস্তফা জামান বাহাদিয়া ফকির বাড়ি থেকে আতাহারে বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত করছেন। তবে প্রকল্পের ২ লাখ টাকার মধ্যে এখনও কোনো অর্থ পাননি।

বাহাদিয়া ফজর আলীর বাড়ি থেকে রফিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার এবং চর দেওকান্দি জামে মসজিদ থেকে নসিবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা প্রকল্পের সভাপতি ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আবুল কাশেম জানান, প্রশাসক ব্যাংকের সাদা চেকে তার স্বাক্ষর নিয়ে নিজে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। কত টাকার কাজ হবে, তা তাকে জানানো হয়নি।

৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. খোরশেদ উদ্দিন জানান, ঈদের আগে প্রশাসক তাকে বলেন, চেয়ারম্যানের কক্ষ রঙ করার জন্য চেকে স্বাক্ষর দিতে হবে। কত টাকার বরাদ্দ এসেছে, তা বলা হয়নি। পরে জানতে পারেন প্রকল্পের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসক বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পাকুন্দিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী সরকার জানান, “ঈদের কয়েক দিন আগে টাকা বরাদ্দ পাই। এজন্য দ্রুত ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলো শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।”

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, “প্রকল্পের সরকারি টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী এবং প্রকল্পের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা ক্ষুব্ধ। তারা দাবি করেছেন, প্রকল্পের টাকা অবিলম্বে ফিরিয়ে আনতে এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসক দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলের অপব্যবহার করে আসছেন। এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে প্রকৃত কাজ সম্পন্ন না করে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংস্থাগুলো এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রকল্পের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর