ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ন্যাটো ছাড়ার হুমকি, ট্রাম্পের হাতে কত ক্ষমতা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৪৬ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রায়ই NATO থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেওয়ার হুমকি দেন। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে পুনর্বিবেচনার বিষয়টি ‘গুরুতরভাবে বিবেচনায়’ রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইউরোপের মিত্রদেশগুলো অংশ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এ ধরনের সহযোগিতা নিঃশর্ত হওয়া উচিত ছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে ন্যাটোর কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে।

ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে তা পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এই সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কার্যকর করতে সদস্যদের ঐকমত্য প্রয়োজন। ১৯৪৯ সালের এই চুক্তিতে মূলত ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে মিত্রদেশগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ এখনো চলমান সংঘাতের লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছে না। ফলে তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব Jens Stoltenberg তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রায় ন্যাটো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও প্রশংসার মাধ্যমে তাঁকে সেই অবস্থান থেকে ফেরানো হয়। ট্রাম্পের মূল আপত্তি ছিল সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে। ২০১৪ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বর্তমানে অনেক দেশই সেই ব্যয় বাড়িয়েছে। এর পেছনে যেমন ট্রাম্পের চাপ কাজ করেছে, তেমনি রাশিয়ার হুমকিও বড় কারণ। তবে বাস্তবতা হলো, ন্যাটোর সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র বহন করে। জোটটির প্রায় ৬২ শতাংশ ব্যয় আসে মার্কিন বাজেট থেকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চলমান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হবে। তিনি ইউরোপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এসব ঘাঁটি যদি সরাসরি আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা না করে, তবে জোটটি একতরফা সুবিধার জায়গা হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে ইতালি ও স্পেনের মতো কিছু ন্যাটো সদস্য দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন সামরিক সহায়তায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্যও শুরুতে দ্বিধায় থাকলেও পরে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন না। ২০২৩ সালের শেষে মার্কিন কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, যেখানে বলা হয়, ন্যাটো ছাড়তে হলে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন বা কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

বর্তমান ন্যাটো মহাসচিব Mark Rutte ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, এই জোটে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর