সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 202
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা-র বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভুইয়া এই সমন জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-কে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতেই আদালত সমন জারি করেন।
এদিন সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির। মামলার বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানহানি ঘটায়।
সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার (রফিক সরকার) সমন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নাস্তিক আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আদালত সমন জারি করেছেন। তিনি আরও জানান, তিনি এই মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আদালত মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারি করেন। এর মাধ্যমে অভিযুক্তকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই অভিযোগে এর আগেও আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত ৩০ মার্চ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস.এম. নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে একশ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটি আদালত তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোতে আদালত সাধারণত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য মনে হলে সমন জারি করা হয়, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিক থেকেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মন্তব্যের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।
এদিকে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগ অস্বীকার বা নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন।
সব মিলিয়ে, একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।