নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, হাম-এর টিকা সংকটসহ আগস্ট পরবর্তী প্রতিটি অপরাধে ইউনূসসহ সকল উপদেষ্টা অপরাধী। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নশীপ পাওয়া ইউনূস শিক্ষার্থী উপদেষ্টা এবং তাদের সাথে আন্দোলন করা কোটা বিরোধী নেতাকর্মীরাও দুর্নীতির কলাকৌশল শিখেছেন। তিনি জানান, অন্তবর্তী সরকারের মুখপাত্র শফিকুল আলমসহ সকল কুশিলবকে আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি।
১ এপ্রিল বিকেলে তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে ‘চলমান দেশ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে মোমিন মেহেদী এই মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশে শিক্ষার্থী নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বাধীনতা বিরোধী-যুদ্ধাপরায়ণ সমর্থকগোষ্ঠি মূলত জামায়াত ইসলামের পক্ষ থেকে ৬ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছে। সেই দলের কাঁধে ভর দিয়েই ইউনূস সরকার এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া তৈরি করেছে।
মোমিন মেহেদী বলেন, “যাদের মূল লক্ষ্য ছিলো টাকা ও ক্ষমতা। সেই ক্ষমতার নেশায় অন্ধরা সারাদেশে সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশয় দিয়ে যে অপরাধ করেছে, প্রতিটি অপরাধে শাস্তি তাদেরকে অবশ্যই পেতেই হবে। আজ জাতির সামনে সেই পুরোনো শকুন নোংরা রাজনৈতিক নকশা আঁকছেন। সেই নকশার সূত্র ধরে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা পরিচালিত স্বাধীনতা বিরোধী দলগুলো থেকে ৭৪ জন সংসদে যাওয়ারও ব্যবস্থা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থী নামের আড়ালে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের সংগঠনকে হাতিয়ার করে নিজেদের স্বার্থে প্রভাব বিস্তার করেছে। ছাত্র আন্দোলন ও কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে তারা অর্থ ও ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন উপায়ে দুর্নীতি করেছে। শিক্ষার্থীরা যদি তাদের আদর্শে বিশ্বাস করে থাকে, তাদেরই উচিত এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।”
মোমিন মেহেদী আরও অভিযোগ করেন, “দুর্নীতিবাজদের প্রতি উদাসীনতা ও প্রশাসনের অনীহা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জনগণ জানতে চায়, কেন এমনভাবে স্বাধীনতা বিরোধী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?”
তিনি বলেন, “এই সময়ে দেশের মানুষকে সচেতন করতে হবে। যারা সন্ত্রাস ও দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। ৭৪ জন সংসদ সদস্যের পেছনে থাকা নকশা ও ষড়যন্ত্র বের করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে আমরা এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বাধ্য।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, সৈয়দ আহমেদ ফারুক প্রমুখ। মোমিন মেহেদী জানান, এনডিবি দলের নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং দেশকে উত্তরণের পথে নিতে বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “দুর্নীতিবাজদের শাস্তি ও সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের দলের লক্ষ্য দেশের জনগণকে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যে আমরা জনগণকে সচেতন করতে এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছি।”
মোমিন মেহেদী আরও বলেন, “দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা না হলে দেশের মানুষ কখনও স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে বাস করতে পারবে না। এজন্য আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সমস্যাগুলি তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। স্বাধীনতা বিরোধী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জনগণকে সম্পূর্ণ তথ্য জানানো হবে।”
তিনি সমালোচনা করেন, “অনেকেই শিক্ষার্থী আন্দোলনের নামে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। তাদের কর্মকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। আমরা চাই এই সকল অপরাধী, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনা হোক, যেন ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয়।”
মোমিন মেহেদী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশের মানুষকে সচেতন করতে হলে আমরা সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। যারা দুর্নীতিবাজ ও স্বাধীনতা বিরোধী, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে আমরা সকল পর্যায়ে সতর্ক ও সক্রিয় থাকব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের যুবকরা যদি সত্যিকারের দেশপ্রেমে বিশ্বাস করে, তবে তাদের উচিত এই দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও স্বার্থপরতাকে মোকাবেলা করা। জনগণকে সচেতন করতে আমরা সংবাদ সম্মেলন, সমাবেশ ও গণমাধ্যম ব্যবহার করছি। প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব দেশের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার প্রতি সচেতন থাকা।”
মোমিন মেহেদী সংক্ষেপে বলেন, “দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা চাই দেশের নাগরিকরা নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি জটিল। দুর্নীতিবাজ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের কারণে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে। তাই জনগণ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আকাশজমিন / আরআর