সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 95
সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। যাত্রীবাহী একটি বাস চলন্ত অবস্থায় চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা খেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের বানিয়াগাঁতী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী বুশরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়ক দিয়ে চলছিল। যাত্রাপথে হঠাৎ বাসটির একটি চাকা ফেটে যায়। এতে চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি দ্রুতগতিতে সড়কের পাশে থাকা ওভারব্রিজের ডিভাইডারে ধাক্কা খায় এবং মাঝামাঝি স্থানে গিয়ে আটকে যায়।
দুর্ঘটনার আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই বাসের দুই যাত্রী নিহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সরানোর কাজ চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটির গতি তুলনামূলক বেশি ছিল। চাকা ফেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তারা বলেন, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে কেউ বুঝে ওঠার আগেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। অনেকেই আহত অবস্থায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অনেক সময় যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও অতিরিক্ত গতিকে দায়ী করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি চালকদের সতর্কতা ও দায়িত্বশীল আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে আহতদের চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, মহাসড়কে যান চলাচল সচল রাখতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।
সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা জনমনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর আহতদের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন স্বজনরা। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আকাশজমিন / আরআর