ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিরাপত্তা চায় ভুক্তভোগী পরিবার

শরণখোলায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:২৭ পিএম

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় জমি জবরদখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় আহতদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোঃ ইদ্রিস মোল্লা বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২৮ মার্চ তার নিজ বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তার বসতঘর ভাঙচুর করে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তার স্ত্রী বাড়িতে একা থাকায় হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তিনি নিজে, তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোঃ ইদ্রিস মোল্লা অভিযোগ করেন, আব্বাস আলী মোল্লা, ইউনুস আলী মোল্লা, রুবি, রাকিবুল ইসলাম স্মরণ, সালমা বেগমসহ আরও কয়েকজন এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, দাঙ্গা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, এই বিরোধ নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার তাকে এবং তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে তার নির্মাণাধীন একটি ভবন ভেঙে ফেলার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। সেই সময়ও তিনি আইনি প্রতিকার চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার নামে বৈধ দলিলভুক্ত জমি রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক সেই জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি হত্যা ও গুমের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নিজেদের বাড়িতে যেতে পারছি না। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা হোক।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

এলাকাবাসীর মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ এ অঞ্চলে নতুন কিছু নয়। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ বাংলাদেশের একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। জমির মালিকানা, দলিল, দখল এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের আধিপত্য—সব মিলিয়ে এ ধরনের সংঘাত প্রায়ই সহিংসতায় রূপ নেয়। তাই এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

সবশেষে মোঃ ইদ্রিস মোল্লা বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা চাই আইন অনুযায়ী বিচার হোক। যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন অন্যায় করার সাহস না পায়।”

এই ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ফলে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর