টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রমজানের দীর্ঘ ছুটির কারণে সৃষ্ট শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের জন্য শনিবারও পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে পাঠগ্রহণ করছেন এবং শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করছেন।
স্থানীয় বিদ্যালয় শিক্ষকরা জানান, রমজানের ছুটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী পূর্ববর্তী পাঠ্যসূচিতে পিছিয়ে পড়েছিল। সেই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত পাঠ্যসূচির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
বিশেষ করে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা বিভিন্ন শিক্ষণ কৌশল ব্যবহার করে শিশুদের শিখন ফলাফল উন্নয়নে কাজ করছেন। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই আগ্রহ নিয়ে পাঠ্যবিষয় অনুশীলন করছে।
অভিভাবকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাগত ক্ষতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব। তবে কিছু অভিভাবক শিশুদের যথাযথ বিশ্রামের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রাফিউল ইসলাম বলেন, “উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে অন্যান্য দিনের মতো শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। শিখন ঘাটতি পূরণের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর।”
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, রমজানের দীর্ঘ ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরতি হলেও এর ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। এই ধরনের বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে শিশুদের শিখন ঘাটতি পূরণ করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব।
স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির সাথে তাল মিলিয়ে চলা নিশ্চিত হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একান্তে কাজ করে তাদের দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে শিক্ষণ পদ্ধতি উন্নত করছেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠ্যবিষয় অনুশীলন ও শিক্ষকের সহায়তা নিশ্চিত করছে। এতে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে এবং মূল শিক্ষাগত লক্ষ্য অর্জনে আরও প্রস্তুত হচ্ছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা একমত, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস হলেও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে পারলে শিশুদের শিক্ষাগত গুণগত মান বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব পড়বে।