সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 64
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে দুঃস্থ ও হতদরিদ্র ৪০টি পরিবারের মাঝে নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে নলকূপ বিতরণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে ‘দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি’। শুক্রবার মাইজবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নলকূপ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ভয়েজ অব কাজিপুরের সাধারণ সম্পাদক ফার্মাসিস্ট কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “মাইজবাড়ি ইউনিয়ন যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত একটি এলাকা। এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং মানবিক সহায়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবারকে ৬০ ফুট পাইপ, ফিল্টারসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে এসব পরিবার সহজেই নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে পারবে। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভয়েজ অব কাজিপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশকারুল হক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিরাজগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক মুনতাসির মেহেদী হাসান, মাইজবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নলকূপ পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ দেখা গেছে। কুনকুনিয়া গ্রামের বৃদ্ধা হাসনা বেগম বলেন, “এতদিন দূর-দূরান্ত থেকে পানি আনতে হতো। এখন নিজের বাড়ির কাছেই নলকূপ থাকায় সেই কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে।” একইভাবে সর্দারপাড়ার সুবিয়া খাতুন জানান, “আগে অন্যের বাড়ি থেকে পানি আনতে হতো, এখন আর সেই কষ্ট করতে হবে না।”
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু পানির সংকট দূরই করবে না, বরং এলাকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এই নলকূপ বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয় সমাজে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির মানবিক ভাবনা ও কার্যকারিতা তুলে ধরেছে। এ ধরনের উদ্যোগ এলাকার মানুষের জীবনের মান উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাইজবাড়ি ইউনিয়নের মানুষ আশা করছেন, নিরাপদ পানি সুবিধা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সহজ করবে এবং শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
উপকারভোগীরা জানান, আগের মতো দূর থেকে পানি আনা আর শারীরিক ক্লান্তি আর হবে না। এছাড়া, শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমে যাবে। স্থানীয়রা মনে করেন, এই ধরনের প্রকল্প শুধু একটি মানবিক উদ্যোগ নয়, এটি এলাকায় সামাজিক সচেতনতা ও সহমর্মিতার উদাহরণ।
মেলা ও বিনোদনের পাশাপাশি পানি সরবরাহের এই উদ্যোগ গ্রামীণ এলাকায় জীবনের গুণগত মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি এর মাধ্যমে একদিকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালু থাকলে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। এছাড়া, এই ধরনের উদ্যোগ শিশু ও নারীসহ পুরো পরিবারের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আকাশজমিন / আরআর