লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় খাস জমিতে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, ইতোমধ্যে জরিপ কাজ শুরু হয়েছে এবং অচিরেই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি শুরু হবে।
শনিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় অভয়াশ্রম এলাকায় মার্চ-এপ্রিল মাসে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন, নদী-নালা সংস্কার, কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ও প্রাণী-মৎস্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। খালেদা জিয়াও এসব কাজের বাস্তবায়ন চেষ্টা করেছিলেন, তবে কিছু কাজ অপূর্ণ রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব অসম্পূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন করবেন। লক্ষ্য হলো দেশকে স্বনির্ভর করা এবং লক্ষ্মীপুরকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলা।”
মন্ত্রী জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “এটি জেলেদের প্রতি সরকারের উদারতা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।”
প্রস্তাবিত কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোনে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এছাড়া ভবানীগঞ্জ-মতিরহাট সড়ক নির্মাণ হলে এলাকা বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও কুমিল্লার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এলাকার যুবসমাজ কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।