মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা বালুমহল এলাকায় বালু ইজারা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা ও গুলাগুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সংঘটিত এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তি মিরাজ হোসেন, যিনি বালুমহলের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিহত মিরাজ হোসেনের বাড়ি পাবনা জেলার বেড়া উপজেলায়। তিনি তেওতা বালুমহলের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ইফতিয়ার এন্টারপ্রাইজের অধীনে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলের দিকে স্পিডবোর্ডযোগে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তেওতা বালুমহল এলাকায় এসে উপস্থিত হয়। তারা মূলত বালুমহলের ইজারাদার ইফতিয়ারকে খুঁজতে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়।
তবে ঘটনাস্থলে ইজারাদারকে না পেয়ে দুর্বৃত্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং ম্যানেজার মিরাজ হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে স্পিডবোর্ডে করে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি এলাকায় গুলি ছুড়তে শুরু করলে মানুষ দিকবিদিক ছুটতে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বালুমহল ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে এলাকাটিতে বালু উত্তোলন ও ইজারা নিয়ে বিভিন্ন সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বালুমহল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিহতের পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “বালুমহলকে কেন্দ্র করে প্রায়ই এ ধরনের সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটে। আমরা চাই, প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এসব বন্ধ করুক।”
এদিকে নিহত মিরাজ হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।