আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে তেহরান তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস এই হুঁশিয়ারি সংবলিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান ধাপে ধাপে তার কৌশল বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুগত শাসকগোষ্ঠীর জন্য আমাদের একটি বড় চমক অপেক্ষা করছে। খুব শিগগিরই তারা সেই চমকের মুখোমুখি হবে।’ তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তাদের সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিটি পদক্ষেপই পরিকল্পিতভাবে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আচরণ পরিস্থিতিকে নতুন দিকে মোড় নিতে বাধ্য করতে পারে। তাঁর ভাষায়, এই অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ এমনভাবে পরিবর্তিত হতে পারে যা ইরানের পক্ষে অনুকূল হবে। ফলে যুদ্ধের গতিপথ ভবিষ্যতে ভিন্ন রূপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্যবস্তুগুলোকে আঘাত করার পরিকল্পনা করছে, সেগুলো বাস্তবে কৌশলগতভাবে খুব বেশি কার্যকর নয়। তিনি বলেন, এসব লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা হয়েছে ভুল তথ্য ও ভ্রান্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে।
ইরানের ওই কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিরও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের সেতুতে হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং তিনি এটিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।
তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের কিছু ব্যর্থতা ট্রাম্পকে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আরও বেড়ে গেছে। বিভিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্তেজনা যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এই সংঘাতের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত উত্তেজনা কমার লক্ষণ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল–জাজিরা
আকাশজমিন / আরআর