আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের রাজধানী তেহরানে রোববার ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের বহু সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। এই খবর সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে বিশাল বিস্ফোরণ দেখা গেছে। ভিডিওতে কালো ধোঁয়া, আগুনের লেলিহান অগ্নিস্ফুলিঙ্গ এবং যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে। ট্রাম্প ভিডিওর সঙ্গে লিখেছেন, “তেহরানে চালানো তুমুল হামলায় ইরানের অনেক সামরিক নেতা, যারা দেশটিকে খারাপ ও অবিবেচক নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদেরসহ আরও অনেক কিছুর ইতি ঘটেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে তিনি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দুই দেশের যৌথ হামলা রোববার পর্যন্ত টানা ৩৭ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। হামলার কারণে দেশটির সামরিক ও নাগরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামলা তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে লক্ষ্য করায় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হয়েছে। হামলার ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক বেস এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এ ধরনের তুমুল হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। যদিও ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী অনেক সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন, বাস্তব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
এই হামলার ফলে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণ এবং তার সঙ্গে ভিডিও প্রকাশে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মোটকথা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষের মধ্যে তেহরান এখন উত্তপ্ত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন খুবই সংবেদনশীল এবং যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর