আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানি বাহিনীর হাতে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধার করতে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও নজিরবিহীন অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ তল্লাশির পর ইরানের গভীরে নিখোঁজ দুই পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরে ট্রাম্প এই অভিযানকে জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনী কয়েক ডজন অত্যাধুনিক ও মারণাস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবিমান অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘এই অভিযানকে আমরা অলৌকিক হিসেবে দেখছি। উদ্ধারকৃত সদস্য কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হলেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ।’’
উল্লেখ্য, এর আগে আরও একজন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় অভিযানের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো, যখন শত্রু সীমানার এত গভীরে মার্কিন সেনাবাহিনী পৃথক দুটি সফল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প এই অভিযানকে ইরানি আকাশসীমায় মার্কিন বিমানবাহিনীর আধিপত্য ও ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনো মার্কিন যোদ্ধাকে কখনোই পেছনে ফেলে আসি না। আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে পেশাদার।’’
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘‘এই সাফল্য সকল আমেরিকানের জন্য পরম গর্বের মুহূর্ত। আমরা দলমত নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে এ ধরনের সাফল্য উদযাপন করব।’’ ট্রাম্প ইস্টার সানডের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্ধার অভিযান মার্কিন সামরিক কৌশল, পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষতার নিখুঁত প্রদর্শনী। এটি দেখায়, মার্কিন সেনাবাহিনী এমন পরিস্থিতিতেও যে কোনো সময় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম। ট্রাম্প এই অভিযানকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এদিকে, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের কেন ভূপাতিত হয়েছিল, সেই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য সবসময়ই আমাদের সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্ধার অভিযান কেবল পাইলটদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিতই করেনি, বরং মার্কিন সামরিক বাহিনীর দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক প্রভাবও প্রমাণ করেছে। ভবিষ্যতে এমন ধরণের কৌশলগত অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনী আরও আত্মবিশ্বাসীভাবে অংশ নিতে পারবে।
মোটকথা, ইরানের গভীরে নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীর সফল অভিযান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা ও আধুনিক যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা, সব মিলিয়ে ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর