ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত ইরান থেকে তেল কিনলো


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:৪৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের রিফাইনারিগুলো আবারও ইরান থেকে তেল কিনেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন রিফাইনারি ইরানসহ অন্যান্য উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে এবং ইরানি তেল আমদানিতে কোনো অর্থ পরিশোধজনিত জটিলতা নেই।

এর আগে, ২০১৯ সালের মে মাসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ভারত ইরান থেকে তেল সংগ্রহ বন্ধ রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে ভারতের রিফাইনারিগুলো পুনরায় ইরান থেকে তেল কিনতে সক্ষম হয়েছে।

ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগাম কয়েক মাসের জন্য দেশটির প্রয়োজনীয় তেলের পূর্ণ চাহিদা ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারত বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করে এবং বাণিজ্যিক বিবেচনায় বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের স্বাধীনতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানি তেল কেনা ভারতের জন্য বাজার স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশল।

এছাড়াও ভারত ইরান থেকে ৪৪ হাজার মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করেছে। গত বুধবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি জাহাজে করে আনা এই গ্যাস ভারতের মাঙ্গালুরু বন্দরে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে খালাস প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশটির নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। ইরানি তেলের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের সাময়িক অনুমোদনও এই সিদ্ধান্তকে সহজ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ইরানকে সমুদ্রে ভাসমান ১৪ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রির জন্য অস্থায়ী অনুমোদন দিয়েছে।

ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। ইরান থেকে তেল ও এলপিজি আমদানি ভারতের জ্বালানি মিশ্রণকে বৈচিত্র্যময় করতে সাহায্য করবে।

মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বাধার প্রেক্ষাপটে ভারতের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আসতে পারে। দেশটি ইতিমধ্যেই রিফাইনারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আমদানি পরিকল্পনা করাও বিবেচনা করছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর