আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের রিফাইনারিগুলো আবারও ইরান থেকে তেল কিনেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন রিফাইনারি ইরানসহ অন্যান্য উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে এবং ইরানি তেল আমদানিতে কোনো অর্থ পরিশোধজনিত জটিলতা নেই।
এর আগে, ২০১৯ সালের মে মাসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ভারত ইরান থেকে তেল সংগ্রহ বন্ধ রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে ভারতের রিফাইনারিগুলো পুনরায় ইরান থেকে তেল কিনতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগাম কয়েক মাসের জন্য দেশটির প্রয়োজনীয় তেলের পূর্ণ চাহিদা ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারত বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করে এবং বাণিজ্যিক বিবেচনায় বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের স্বাধীনতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানি তেল কেনা ভারতের জন্য বাজার স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশল।
এছাড়াও ভারত ইরান থেকে ৪৪ হাজার মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করেছে। গত বুধবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি জাহাজে করে আনা এই গ্যাস ভারতের মাঙ্গালুরু বন্দরে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে খালাস প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশটির নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। ইরানি তেলের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের সাময়িক অনুমোদনও এই সিদ্ধান্তকে সহজ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ইরানকে সমুদ্রে ভাসমান ১৪ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রির জন্য অস্থায়ী অনুমোদন দিয়েছে।
ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। ইরান থেকে তেল ও এলপিজি আমদানি ভারতের জ্বালানি মিশ্রণকে বৈচিত্র্যময় করতে সাহায্য করবে।
মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বাধার প্রেক্ষাপটে ভারতের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আসতে পারে। দেশটি ইতিমধ্যেই রিফাইনারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আমদানি পরিকল্পনা করাও বিবেচনা করছে।
আকাশজমিন / আরআর