ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

‘পাগল’ ট্রাম্পকে থামাতে সাবেক আইএইএ প্রধানের আহ্বান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:৫১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ এলবারাদেয়ি ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং জাতিসংঘকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে এলবারাদেয়ি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লিখেছেন, “দয়া করে এই পাগল ব্যক্তিটি পুরো অঞ্চলকে আগুনের পিণ্ডে পরিণত করার আগেই আপনাদের ক্ষমতার মধ্যে যা কিছু আছে তা দিয়ে এটি ঠেকানোর চেষ্টা করুন।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্পের এই চরমপত্র মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।

এলবারাদেয়ি শুধু আঞ্চলিক নেতাদের কাছে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ সংস্থা জাতিসংঘের কাছে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইংরেজিতে প্রকাশিত পৃথক একটি পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কি আসলেই কোনো উপায় নেই?”

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্যের অসারতা তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া এই সাবেক আইএইএ প্রধান ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে ‘নিজের ইচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ বা ‘ওয়ার অফ চয়েস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, তেহরানের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধের পথে এগোচ্ছে, তার চড়া মূল্য পুরো বিশ্বকে দিতে হবে।

এলবারাদেয়ি সতর্ক করেছেন যে, ইরান কোনো আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করছে এমন কোনো প্রমাণ ওয়াশিংটন এখনও উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই একটি সার্বভৌম দেশের ওপর সামরিক চাপ সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেছেন, অতীতেও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধগুলো শুরু হয়েছিল, তার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তাই আরেকটি রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে যে কোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে।

এলবারাদেয়ি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রাজনৈতিক জিঘাংসার জন্য নিরপরাধ মানুষের জীবন নিয়ে খেলাধুলা বন্ধ করতে হবে। তার মতে, ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যদি বিশ্বনেতারা কোনো রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে না পারেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এলবারাদেয়ির আহ্বান মূলত সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধ করার শেষ চেষ্টা। তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতি দৃঢ়ভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিবেচনা ও সংযম বজায় রাখতে হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর