ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

রাশিয়ার নরসি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমোরস্ক বন্দর এবং মধ্যাঞ্চলের নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত নরসি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলার খবর প্রথম রাশিয়ার কর্মকর্তারা রোববার (৫ এপ্রিল) জানান।

প্রিমোরস্কে একটি পাইপলাইনে ক্ষতি হয়েছে, যা রাশিয়ার প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, বন্দর এলাকায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে শার্পনেলের আঘাতে ফাঁটল ধরেছে, ফলে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর গ্লেব নিকিতিন জানান, রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম নরসি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। হামলার সময় স্থাপনাটির দুটি ইউনিটে প্রভাব পড়েছে এবং একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রিমোরস্কে গত মার্চেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় একটি তেল ডিপোতে আগুন লেগেছিল। রাশিয়ার তেল পরিবহন কোম্পানি ট্রান্সনেফট এই বন্দর ব্যবহার করে বিদেশে তেল রপ্তানি করে। হামলার ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে সরবরাহ প্রভাবিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

নরসি শোধনাগার রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেট্রোল উৎপাদক হিসেবে পরিচিত। এটি বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম, যা দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের সমতুল্য। তাই এই হামলার প্রভাব রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার স্থানীয় প্রশাসন, জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসন জানিয়েছে, তেল শোধনাগারের পুনরায় কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয়ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বাজারে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রিমোরস্ক বন্দরটি রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র। এটি ফিনল্যান্ড সীমান্ত ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। শোধনাগার ও বন্দর উভয় স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং পুনরায় হামলার প্রতিরোধে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনও হামলার ব্যাপারে বিস্তারিত বিবৃতি আসেনি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং আল জাজিরার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হলেও তা দেশের তেল শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর