ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ট্রাম্পের হুমকির পর জয়শঙ্করের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুমকির পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফোনালাপ করেছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানের জন্য হুমকিস্বরূপ একটি বার্তা দিয়েছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, “মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর দিন, সবকিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে। এখনি (হরমুজ) প্রণালি খুলে দাও, না হলে তোমরা জাহান্নামে পড়বে। শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করো।” এই হুমকির প্রেক্ষিতে ইরান-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ফোনালাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ফোনালাপে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আলোচনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে নিযুক্ত ইরান দূতাবাসও এই ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, আলোচনা ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত।

জয়শঙ্কর ফোনালাপের পর জানিয়েছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি। তবে এই আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের হুমকি এবং তারপরের দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জয়শঙ্কর সব ধরনের কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছেন।

ফোনালাপের মাধ্যমে ভারতের লক্ষ্য ছিল, ইরানকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো। এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা নিশ্চিত করাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত এবং ইরানের মধ্যে যোগাযোগ সবসময়ই উন্মুক্ত ও নিয়মিত। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের কূটনৈতিক সংলাপ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য, ট্রাম্পের হুমকির ভাষা তীব্র হলেও দুই দেশই উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করছে। ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, এই ধরনের ফোনালাপ ভবিষ্যতে সংঘাত প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর