আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া’ হতে পারে।
স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ হুমকি দেন। সাক্ষাৎকারে এবিসি নিউজের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক প্রতিবেদক র্যাচেল স্কট তাকে প্রশ্ন করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির জন্য যে দুই থেকে তিন সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটি কি এখনো বহাল রয়েছে?
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, সময়সীমা এত দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। তার মতে, কয়েক সপ্তাহ নয়—এটি কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, চলমান হামলার কারণে ইরান ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও খারাপ হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন তাদের নতুন করে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “এর আগে কোনো দেশ এভাবে মার খায়নি।”
তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তেহরান জানায়, যারা হামলার সঙ্গে জড়িত বা সংশ্লিষ্ট—তাদের কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই পথ দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার দেশগুলো নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক বড় অর্থনীতির দেশও চাপে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বারবার ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান জলপথটি খুলে না দেয়, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন। তিনি লিখেছেন, “মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা।” তেহরানের সময় অনুযায়ী যা বুধবার মধ্যরাত।
একই দিনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ইরান কোনো পদক্ষেপ না নিলে দেশটির কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাশিয়া ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: এবিসি নিউজ, আলজাজিরা