ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ইস্টার সানডেতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৪


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:২০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইস্টার সানডের দিনে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। গত ২ মার্চ লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কাফরহাতা গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। হামলার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। হঠাৎ বিমান হামলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বৈরুতের জনাহ এলাকায় চালানো আরেকটি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার কারণে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরি সেবা কর্মীরা।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, বৈরুতের পূর্বে অবস্থিত আইন সাদেহ এলাকায় চালানো বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। হামলার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই হামলাগুলো চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

এই হামলার সময় লেবাননের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা ইস্টার সানডে উদ্‌যাপন করছিলেন। ধর্মীয় উৎসবের দিনে এমন হামলা দেশটির মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার নিন্দা জানিয়ে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

গত ২ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে চলমান সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই



এ সম্পর্কিত আরো খবর