ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ইস্টার সানডেতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৪


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:২০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইস্টার সানডের দিনে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। গত ২ মার্চ লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কাফরহাতা গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। হামলার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। হঠাৎ বিমান হামলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বৈরুতের জনাহ এলাকায় চালানো আরেকটি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার কারণে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরি সেবা কর্মীরা।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, বৈরুতের পূর্বে অবস্থিত আইন সাদেহ এলাকায় চালানো বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। হামলার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই হামলাগুলো চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

এই হামলার সময় লেবাননের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা ইস্টার সানডে উদ্‌যাপন করছিলেন। ধর্মীয় উৎসবের দিনে এমন হামলা দেশটির মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার নিন্দা জানিয়ে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

গত ২ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে চলমান সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই



এ সম্পর্কিত আরো খবর