আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যপথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। চলমান সংঘাতের ২৭তম দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে, এবং তেহরান শক্তিশালী জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রথম আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্র অক্ষুণ্ণ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করেছে। তেহরান এ ধরনের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটও সৃষ্টি করেছে ইরান।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান নতুন হুমকি দিয়েছে, যা হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ জারি করার।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যদি শত্রুপক্ষ ইরানের দ্বীপপুঞ্চ বা ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালায় বা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে কার্যক্রম বৃদ্ধি করে, তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন ফ্রন্ট খোলা হবে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি ইয়েমেনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এই সংকীর্ণ জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সুয়েজ খালের নৌযানের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পণ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলীয় তেলখনি থেকে উৎপাদিত তেলের ১২ শতাংশই এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
প্রণালির অবস্থান হয়েও ইরান এই অবরোধ কার্যকর করতে সক্ষম কারণ ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে আছে ইরানের সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আইআরজিসির এক কর্মকর্তা ফার্স নিউজকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই হুথি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা এই ক্ষেত্রে ইরানকে পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে সম্ভাব্য অস্থিরতা তৈরি হবে।
বিশ্বের প্রধান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা, কারণ এটি শুধুমাত্র সামরিক উত্তেজনা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।
সূত্র: ফার্স নিউজ