আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হলে তেহরানও একই ধরনের পাল্টা জবাব দেবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে পরিষ্কারভাবে ঘোষণা দিয়েছে—দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তার সমান জবাব দেওয়া হবে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিষ্কার করে বলেছে, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে আমরাও একইভাবে পাল্টা জবাব দেব।’ তার মতে, এই অবস্থান ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির অংশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের সহযোগীদের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন যেকোনো অবকাঠামো, যা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে সহায়তা করবে—তা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন কিংবা তাদের সঙ্গে যেকোনোভাবে সংশ্লিষ্ট অথবা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সহায়ক—এমন যেকোনো অবকাঠামোকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী লক্ষ্যবস্তু বানাবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এমন সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া পাল্টা হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এই অঞ্চলের যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। অন্যথায় পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি অঞ্চলটিকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: আল–জাজিরা