আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামির লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে ‘অপারেশনাল জোন’ বা সামরিক অভিযানের এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মূলত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান ইয়াল জামির রোববার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে মোতায়েন করা সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি রাস আল-বায়াদা এলাকায় অবস্থানরত সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
বিবৃতিতে ইয়াল জামির বলেন, লেবানন থেকে ছোড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত কমিয়ে আনতে এবং শেষ পর্যন্ত তা পুরোপুরি বন্ধ করতে ইসরায়েলি বাহিনী কাজ করছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে অপারেশনাল জোন হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমে ওই এলাকায় সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে। এর ফলে স্থল অভিযানের পাশাপাশি নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান ইসরায়েলি হামলা ও স্থল অভিযানের কারণে ইতোমধ্যে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে দেশটির ১১ লাখের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকর্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েল লেবাননের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে অপারেশনাল জোন ঘোষণা করার মাধ্যমে ইসরায়েল ওই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের এই সামরিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লেবানন থেকে ছোড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা