আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরশহর হাইফা-র একটি আবাসিক ভবনে ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে ২ জন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা এখনও তৎপর। হাইফার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের হাইফা শাখার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
রোববার বিকেলে হাইফার আবাসিক এলাকায় একটি পাঁচ তলা ভবনে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি। আঘাতের ফলে ১১ জন আহত হন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন আরও ৪ জন। উদ্ধারকারী বাহিনী অবিলম্বে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ইসরায়েলের সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র মাগেন ডেভিড অ্যাডম-এর হাইফা শাখায় ভর্তি করা হয়।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ২ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন। বাকি ২ জনকে উদ্ধারে অভিযান এখনও চলমান। এই হামলার ফলে ভবনের আংশিক ধ্বংস দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়্যারহেডের ওজন ৪৫০ কেজি ছিল। হামলার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মকর্তারা জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
নিহত এবং আহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে। শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সেবা ও উদ্ধার অভিযান তৎপর রেখেছে।
এই হামলা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সাম্প্রতিক উদাহরণ। এর ফলে হাইফা শহরের সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত। নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি থেকে সজাগ থাকার জন্য।
আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর আহতদের বিশেষ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসকরা উদ্ধারকৃতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্ট দিচ্ছেন।
হাইফার নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের কাছে যেন কেউ না যায়। নিরাপত্তা বাহিনী সীমানা নির্ধারণ করেছে এবং উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছে।
এই হামলার কারণে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের সরকারি কর্মকর্তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।