ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আইডিএফ জানে না ইরানের কতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৪৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক পরিমাণকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের উপর আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এখন এই ক্ষেপণাস্ত্রের কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।

শুধু অনুমানেই বলা হচ্ছে যে, যুদ্ধের প্রথম ধাপের আক্রমণে ইরানের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত বা ধ্বংস হয়েছে। আইডিএফ-এর অধিকাংশ কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন, এখন মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু জেরুজালেম পোস্টের সঙ্গে আইডিএফ-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র স্বীকার করেছে, প্রকৃতপক্ষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক সংখ্যা কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না।

শনিবার রাতে চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে আইডিএফ বিমান বাহিনীর কর্নেল ‘টি’ (প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি) দাবি করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছে এখনও ১,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এটি আইডিএফ-এর পূর্বের অনুমানের (কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট) সম্পূর্ণ বিপরীত। এর ফলে ইসরায়েলের সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলার ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসস্তূপে কতগুলো ব্যবহারযোগ্য বা মেরামতযোগ্য রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ধ্বংসস্তূপের ধরন ভিন্নভিন্ন হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ধস ঘটেছে, আবার কিছু স্থানে বড় ধরনের ধস পুরো ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিকে চাপা দিয়েছে।

বিদেশি সূত্রের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ইরান একদিনেরও কম সময়ে ধসে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বা সাইলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে, এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেবল ইরানের দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রাগারের অংশ নয়, স্বল্পমেয়াদেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্রের বিষয়টিও আলাদা। আইডিএফ বিভিন্ন সময়ে ইরানের কতগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ধ্বংস হয়েছে এবং কতগুলো চাপা পড়েছে তা ভিন্ন ভিন্নভাবে জানিয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭০-৮০% উৎক্ষেপক সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ৫০% ধ্বংস হয়েছে এবং ৫০% চাপা পড়েছে।

ওই অনিশ্চয়তার কারণে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সামর্থ্য ও স্থিতিশীলতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের চতুর্থ দিনের মধ্যেই ইরানের প্রতিদিনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার ২০টির নিচে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও এই হার আরও কমেছে।

কিছু নিশ্চিত পরিসংখ্যানও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েল জানে যে ইরান তাদের দিকে ৫০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে, আর উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো জানিয়েছে যে ইরান তাদের দিকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১,৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

আইডিএফ বারবার বলেছে যে যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এই হিসাব অনুযায়ী, যদি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস না হত, তবে ইরানের কাছে প্রায় ৭০০টির কম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা। আর যদি আইডিএফ অন্তত কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, তবে ইরানের হাতে মাত্র কয়েকশ অবশিষ্ট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইডিএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় ৯০% হ্রাস পেয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে এই অনুমান পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে আইডিএফ বলেছিল যে ইরানের হাতে ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, কিন্তু কয়েক মাস পরে তা ৩,০০০ হিসাবে সংশোধন করা হয়। এর ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নয়, ব্যবহারের সক্ষমতা, পুনরুদ্ধারযোগ্যতা ও উৎক্ষেপক যন্ত্রের অবস্থা নিয়েও আইডিএফ-এর অনুমান ঘনঘন পরিবর্তিত হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের জন্য সামরিক কৌশল নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান ধ্বংসস্তূপের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনরুদ্ধার ও মেরামতের মাধ্যমে নিজের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা স্বল্প সময়ে পুনরায় শক্তিশালী করতে সক্ষম হচ্ছে। এটি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর