ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে ইসরায়েল। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে একটি হিব্রু সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েলের অর্থনৈতিক সংবাদপত্র ক্যালকালিস্ট গত রোববার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় ৪৭ বিলিয়ন শেকেলস (প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার) খরচ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুদ্ধের সামরিক খরচ বাবদ প্রায় ৩৯ বিলিয়ন শেকেলস (প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ চেয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা নতুন সংঘর্ষ শুরু হলে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ইসরায়েল তার প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর চিন্তা করছে। কারণ, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকেও ইসরায়েলের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২৬ হাজার ইসরায়েলি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছে। এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন শেকেলস (প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার)।
যদিও সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় নয়, তবে সামগ্রিক বাজেটে যুদ্ধের বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিরক্ষা ও পুনঃনির্মাণের খরচের সঙ্গে বেসামরিক ক্ষতির প্রভাব মিলিয়ে ইসরায়েলের অর্থনীতি ক্রমেই উত্তেজনার মুখে পড়ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের সূত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামলায় ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতি ইরান-ইসরায়েল বিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশই এখন এই যুদ্ধে আর্থিক ও সামরিক প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুত হচ্ছে।
যুদ্ধের ব্যয় ও মানবিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ব্যয় এবং বেসামরিক ক্ষতি মিলিয়ে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর